দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধনসহ চলমান সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা এবং গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ। এ সময় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাঁরা সহযোগিতা করতে চান। সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনোনীত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করে ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা, পাহাড়ধস প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করছে সংস্থাটি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করতে চায় সরকার। তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায় না সরকার।
পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ইউএনডিপি কাজ করছে বলে জানান স্টিফেন রড্রিগেজ। নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে ইউএনডিপির সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এসব বিষয় মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইউএনডিপি কাজ করছে বলে জানান আবাসিক প্রতিনিধি। কোনো ধরনের লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। এ আইন সফলভাবে বাস্তবায়নে ইউএনডিপি লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারে।
প্রস্তাবিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে আইনটি পাস হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, পত্রিকার সম্পাদক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। দেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, খসড়াটি মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়েও কথা বলেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সবসময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র উঠে আসে না। বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ—এই ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও ইউএনডিপি কাজ করতে আগ্রহী।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এমএম/